বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধানের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধানের আহ্বান
‘জলবায়ু স্থিতিশীলতার জন্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান’ শীর্ষক একটি আঞ্চলিক ওয়েবিনার। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে কার্যকর ও টেকসই পন্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সোমবার (১৯ মে) এ লক্ষ্যে ‘জলবায়ু স্থিতিশীলতার জন্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান’ শীর্ষক একটি আঞ্চলিক ওয়েবিনারের আয়োজন করে সার্ক কৃষি কেন্দ্র।

এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ওয়েবিনারে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তারা বলেন, দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কৌশল, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ ড. রাজা উল্লাহ খান।

ওয়েবিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বন্যা, খরা, ভূমিধস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো সমস্যাগুলো এখন এ অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করে টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান জলবায়ু স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি কৃষি উৎপাদন টেকসই করা, পানি সম্পদ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব কৌশল গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনযাত্রা আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। তাই সার্ক অঞ্চলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ওয়েবিনারে থাইল্যান্ডভিত্তিক এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ারনেস সেন্টারের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ড. রিশিরাজ দত্ত তার উপস্থাপনায় বলেন, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে পরিবেশগত ও সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করে।

তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সফল উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এখন আর বিকল্প কোনো ধারণা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু স্থিতিশীলতা ও জীবিকা সুরক্ষার জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত সহায়তা, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। টেকসই নগরায়ণ, কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি-ভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

ওয়েবিনারে ইতালির আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পরিচালক এবং গ্লোবাল ওয়েটল্যান্ড টেক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ড. ফাবিও মাসি প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে বর্জ্য পানি পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, স্বল্প ব্যয়ে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে পানি পুনর্ব্যবহার, পুষ্টি উপাদান পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে চিকিৎসা জলাভূমিভিত্তিক প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বৃত্তাকার অর্থনীতিভিত্তিক উন্নয়ন কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষি ও জনস্বাস্থ্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ওয়েবিনারের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তঃক্রিয়ামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারীরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সমাপনী বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার সার্ক কৃষি কেন্দ্রের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সার্ক সচিবালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর