Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মদনে খাদ্য গুদামে মিলল অতিরিক্ত সাড়ে ৪৩ টন চাল, গুদাম সিলগালা

জেলা প্রতিনিধি

১৭ মে ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

নেত্রকোনার মদনে সরকারি খাদ্য গুদামে অতিরিক্ত ৪৩ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন চাল পাওয়ার ঘটনায় গুদাম সিলগালা করেছে খাদ্য বিভাগ। এর আগে ট্রাকভর্তি ২০ টন সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমে এ অনিয়মের তথ্য সামনে আসে।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে খাদ্য অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম বিষয়টি জানান।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত গুদামে তদন্ত কাজ করেন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মদন উপজেলার নেত্রকোনা-মদন সড়কের সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে ৬৬৭ বস্তায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল জব্দ করে প্রশাসন। এসময় ট্রাকের চালক শামীম মিয়া ও হেলপার শাহীন মিয়াকে আটক করা হয়।

পরদিন শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় মদন থানায় মামলা করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা দুলাল মিয়া। মামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এনামুল হক আনারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়।

de10d275-db20-4563-95ce-78c735bf4c1b

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। শনিবার বিকেলে খাদ্য অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তকালে গুদামের ধান-চালের স্টক মিলিয়ে দেখা হলে হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত ৪৩.৫৬০ টন চাল পাওয়া যায়। এছাড়া গুদাম ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. সেলিমুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, গুদামে জমা রেখে ব্যবসা করার উদ্দেশে এসব চাল মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে এগুলো পাচার করা হতো।

তিনি বলেন, গুদামে পাওয়া অতিরিক্ত ৪২.৫৬০ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। এই চাল গুদামের স্টকের সাথে যুক্ত করা হবে। আর প্রশাসনের হাতে জব্দ হওয়া ২০ টনের চালের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ২০ টন চালের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

ববির শারীরিক শিক্ষা দফতরের উপ-পরিচালক সেলিনা বরখাস্ত

সেলিমুল আজম আরও বলেন, এ ঘটনায় গুদাম কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার পাশাপাশি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকারও আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রতিটি গুদাম পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণক কর্মকর্তা (ডিসি ফুড) মদন খাদ্য গুদাম গত দুই বছরে একবারও পরিদর্শন করেননি। তাই এই ঘটনায় তিনি দায় এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন অতিরিক্ত পরিচালক সেলিমুল আজম।

এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান জানান, এই ঘটনায় তার কোনো দায় নেই। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের পাঠানো পাক্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি গুদামের ধান-চালের স্টকের বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। মদন খাদ্য গুদামে অতিরিক্ত চাল রয়েছে এটা তিনি জানতে না। জানলে নিজেই অভিযান চালাতেন বলেও জানান। মাসে জেলার সা-আটটি গুদাম তিনি পরিদর্শন করেন। তবে মদন খাদ্য গুদাম পরিদর্শনের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

প্রতিনিধি/এসএস