ঢাকা মেইল ডেস্ক
১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইস্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএসআইএ)। বিশেষ করে ৭২০৯ এবং ৭২১০ এইচএস কোডভুক্ত লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালের ওপর নতুন করে রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) বা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে বাজারে একটি অস্বাভাবিক শুল্ক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এই বৈষম্যমূলক শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দেশীয় সামগ্রিক শিল্পের স্বার্থ রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে অংশীজনদের সাথে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থবিরতা এড়াতে দোকানপাট বন্ধ, মানববন্ধনের মতো কঠোর সামাজিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুজার গিফারী জুয়েল। সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রশংসা করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু শুল্ক কাঠামোর কারণে দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প কীভাবে ধ্বংসের মুখে পড়বে, তার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে আবুজার গিফারী জুয়েল বলেন, রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার: ৭২০৯ এবং ৭২১০ হেডিংভুক্ত আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন রেগুলেটরি ডিউটি (RD) অনতিবিলম্বে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষা: দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের স্বার্থকে জাতীয় শিল্পনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়া যৌথ আলোচনা স্থায়ী সমাধান: শুদ্ধ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সকল অংশীজনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই শুল্ক কাঠামো প্রণয়ন করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমির হোসেন নূরানী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে হট-রোল্ড কয়েল (HRC) এবং গ্যালভানাইজড স্টিলের (GP) মধ্যে স্বাভাবিক মূল্য পার্থক্য সাধারণত প্রতি টনে ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামোর কারণে এই ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নিয়মে প্রতি টনে প্রায় ৪৮,০০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত ব্যবধানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এমনিতেই উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের চাপে রয়েছেন। এর ওপর অতিরিক্ত রেগুলেটরি ডিউটি (RD) যুক্ত হলে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
আমির হোসেন নূরানী আরও বলেন, ডব্লিউটিও চুক্তি অনুযায়ী অংশীজন বা স্টেক হোল্ডারের সাথে আলোচনা করে নীতি নির্ধারণ করার কথা ছিল কিন্তু তা করা হয়নি বা আমাদের জানানো হয়নি। একটি শ্রেণীকে প্রতি টনে পঞ্চাশ হাজার টাকা সুবিধা দেওয়ার জন্য অর্থাৎ মানি মেকিং করার জন্য দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অন্য শ্রেণীকে নিঃস্ব করে দিয়ে আরডি বসানো হয়েছে।
তিনি জানান, বছরে এই আরডির ফলে বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা মানি মেকিংয়ের সুযোগ করা দেওয়া করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যত সুবিধা বড় উদ্যোক্তাদের, বিপরীত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করে আরডি বসানো হয়েছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শিল্প কারখানার জন্য যারা কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায় না তাদের সুরক্ষার জন্য নীতিমালার দাবি জানাচ্ছি। আরডি বসানোর ফলে ৫০ লক্ষের অধিক কর্মচারী কর্ম স্থান কর্মসংস্থান হারাবে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিরউল্লাহ বলেন, এ শিল্পের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়বে, যা বাজারে চলমান মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ বাড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ঈমান উল্লাহ মাস্তান, মিরহাজিরবাগ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাশেম, ধোলাইখাল সিটি ব্যবসায়ীর সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান মোবারক, কেরানীগঞ্জ সীট ব্যবসায়ী সমিতির আজগর আলী ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ আলী ও সংগঠনের কোষাধক্ষ আবুল কাশেম আরও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আরআর