নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের একটি বাস্তবমুখী রোডম্যাপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত “প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইবিএফবি’র প্রেসিডেন্ট লুতফুন নিসা সৌদিয়া খান বলেন, বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, শিল্পায়ন, এসএমই খাতের উন্নয়ন, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির উদ্যোগগুলো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইবিএফবি। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা দূরীকরণ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাজেট বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করেছে আইবিএফবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ (Ease of Doing Business), এসএমই খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
আরও পড়ুন: রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল, আয়কর-ভ্যাট-কাস্টমসে তিন টাস্কফোর্স
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও আইবিএফবি’র লাইফ মেম্বার ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “টেকসই বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া নীতিগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইবিএফবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশীদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার উৎপল কুমার দাস এবং পরিচালক এম. এস. সিদ্দিকী।
সবশেষে আইবিএফবি আশা প্রকাশ করে যে, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে এ বাজেট দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
এজেড