Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

‘কোটা সংস্কার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া ষড়যন্ত্রের ঈঙ্গিত'

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২০ পিএম

জুলাই বিপ্লবের এক বছরেও কোটা সংস্কারের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের আইন ও আদালত সমন্বয়ক জালাল আহমদ।

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও উচ্চ আদালতের যে মামলার রায়ের কারণে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, সে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি। আমরা এতে ষড়যন্ত্রের ঈঙ্গিত পাচ্ছি। আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে শেখ হাসিনা কৌশলে কিছু ফাঁকফোকর রেখেছে যাতে পরবর্তীতে কোটা পুনর্বহাল করা যায়।  

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, মামলার রায়ে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটা বাতিল, সংশোধন বা সংস্কার করতে পারবে। কিন্তু কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসতে পারলে কোটা পুনর্বহাল করার সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের ছাত্র এমরান উদ্দিন, মোস্তফা আল ইজাজ প্রমুখ।

Kota2

জালাল আহমদ এ সময় অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ কোটা সংস্কার কিংবা বাতিল কোনটাই চায় নি।আওয়ামী লীগ চেয়েছে কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনে 'আওয়ামী উপনিবেশ' তৈরি করতে। তাই সবসময় আওয়ামী লীগ শিক্ষার্থীদের দাবিকে উপেক্ষা করেছিল। 

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ৫ জুন কোটা বাতিলের পরিপত্র সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির হায়াত এবং বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের এর দ্বৈত বেঞ্চ কোটা পুনর্বহাল করে রায় প্রদান করেন।রায় প্রদান করার সাথে সাথেই আমি হাইকোর্টে গিয়ে মামলাটির আদেশ দেখে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহযোদ্ধা নুরুল হক নুর এবং ফারুক হাসানসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করি।

যুদ্ধাপরাধী মামলার রায়ের মতো কোটা সংস্কার আন্দোলনের রায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঠানো রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ জুলাই  ওই মামলায় চেম্বার জজ আদালত স্থগিতাদেশ জারি করেন। গত বছরের ২১ জুলাই তীব্র আন্দোলনের মুখে আন্দোলনকারীদের অংশগ্রহণ ছাড়াই ২১ জুলাই  ৯৩% মেধা এবং ৭% কোটা‌ রেখে আপিল বিভাগে মামলার নিষ্পত্তি হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংক্রান্ত মামলার ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে বলেন, আপিল বিভাগের দেওয়া সংক্ষিপ্ত এই রায়ে অসংখ্য ভুল এবং ফাঁকফোকর রেখেছে তৎকালীন সরকার যাতে পরবর্তী সময়ে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল করতে পারে । যেমন-এই মামলায় কিছু ভুল-ত্রুটি হচ্ছে মামলার বিচার্য বিষয় ১ম এবং ২য় শ্রেণিতে কোটা পুনর্বহাল না বাতিল। সেখান ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে সংস্কারের বিষয়ে রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে কোটা সংক্রান্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় দ্রুত প্রকাশ করার জন্য একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে। কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আজ এক বছর পূর্ণ হলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি। এটা কে আমরা ষড়যন্ত্র বলে মনে করি। আমরা কোটা পদ্ধতির মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দাবিতে  অটল আছি এবং থাকবো।

এমআর/এআর