Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের পদক্ষেপে আমেরিকা ছাড়ছেন ভারতের নোবেলজয়ী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৩ এএম

আমেরিকা ছাড়ছেন ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী এস্থার ডাফলো। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন তারা। থাকবেন সে দেশেই। 

এ কথা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ফ্লোরিয়ান স্কিউয়ার। 

দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় বরাদ্দ কমিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেই জল্পনা তৈরি হয়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণে আমেরিকা ছাড়তে পারেন শিক্ষাবিদ, গবেষকেরা। সস্ত্রীক অভিজিৎও এ কারণেই আমেরিকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অভিজিৎ এবং এস্থারের সুইৎজারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার খবরটি প্রথম প্রকাশ করেন ফ্লোরিয়ান। তিনি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে লেখেন, ‘২০২৬ সালের ১ জুলাই জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে লেম্যান ফাউন্ডেশন প্রফেসর হিসাবে যোগ দিতে চলেছেন নোবেলজয়ী এস্থার ডাফলো এবং অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।এটা জানাতে পেরে আমি আপ্লুত।’ 

সেখানে অর্থনীতির একটি নতুন কেন্দ্রও (সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট ইকনোমিকস) গড়ে তুলবেন অভিজিৎ এবং তার স্ত্রী এস্থার। ফ্লোরিয়ান জানিয়েছেন, তারা যে সেখানে অধ্যাপক, গবেষক হিসাবে যোগ দিচ্ছেন, তা জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে খুব গর্বের। এতে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানিয়েছেন ফ্লোরিয়ান।

সুইজারল্যান্ডে সম্প্রতি ‘লেম্যান সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট, এডুকেশন, পাবলিক পলিসি’ তৈরি হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানেরই নেতৃত্ব দেবেন এস্থার এবং অভিজিৎ। ব্রাজিলের লেম্যান ফাউন্ডেশনের অনুদানে তৈরি হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। সেখানেই অর্থনীতি, নীতির মূল্যায়ন নিয়ে গবেষণা চালাবেন অভিজিৎ এবং এস্থার।

বর্তমানে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়ান এস্থার। 

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ব্যয়সঙ্কোচের পথে হেঁটেছেন। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ কমিয়েছেন। তার রোষে পড়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, সরকারের দেওয়া শর্তাবলি না-মানলে বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণার জন্য সব সরকারি সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

গত মার্চে আমেরিকায় বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা দফতর। এই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার ফলে শিক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বন্ধ করে আমেরিকার কেন্দ্রীয় প্রশাসন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ফের তুলে দেওয়া হয় আমেরিকার প্রদেশগুলির উপর। 

স্থানীয় প্রশাসনই আমেরিকার শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে মাথা ঘামাবে বলে জানানো হয়। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের তকমা খোয়ায় নাসা। তার আগে অর্থবরাদ্দও কমানো হয়। শিক্ষাবিদদের একাংশ এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। 

তারা জানিয়েছেন, এ রকম চললে আমেরিকা ছাড়বেন বহু গবেষক। এবার আমেরিকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অভিজিৎ এবং এস্থার। 

-এমএমএস