আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মে ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে পুনরায় হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের মিডিয়া স্টাডিসের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি।
সোমবার (১৮ মে) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেছেন, “মার্কিন প্রেসিপেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানের কাছে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ ফের যুদ্ধ শুরু করার জন্য উসকানি দিচ্ছে। এরমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ‘যুদ্ধবাজ’ কর্মকর্তারও রয়েছেন।”
এলমাসরি আরও বলেছেন, ‘ইরানের কাছ থেকে তিনি (ট্রাম্প) যে ধরনের আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন এবং প্রত্যাশা করেছিলেন, তা পাননি। ট্রাম্প আশা করেছিলেন ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ভিন্নভাবে হবে। এরসঙ্গে চীন সফরে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও তিনি ইরান নিয়ে উচ্চ আশা করেছিলেন। তবে এর কিছুই হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধটি শেষ করে দেওয়াই বিচক্ষণতার কাজ হবে, কারণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি তার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সত্যিকারের বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তার এমনটা করার সম্ভাবনা কম, কারণ ট্রাম্প এই মুহূর্তে আমেরিকার জনগণের কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য বিজয় ঘোষণা না করে পিছিয়ে যেতে পারবেন না।’
এদিকে ইরানে আবারো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিপ্লব দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ইরানে মার্কিন সেনা পাঠান, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটবে।’
ট্রাম্প প্রশাসনকে হুশিযারি দিয়ে গ্রিন আরও বলেন, ‘আমরা শেষ। আমরা বলেছি-আর কোনো বিদেশি যুদ্ধ নয়, এবং আমরা তাই বোঝাতে চেয়েছি। এই জোট একত্রিত হবে এবং অপ্রতিরোধ্য হবে। আমি এটা নিশ্চিত। এই যুদ্ধ বন্ধ করুন। এটা বোকামি।’
অন্যাদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলমান আছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের মন্তব্য পাঠিয়েছে। তেহরানের প্রধান দাবি হলো ইরানের জব্দকৃত অর্থ (ফ্রোজেন ফান্ড) মুক্ত করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে, আমরাও আমাদের মতামত দিয়েছি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরো বলেন, ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক উপাদান নিয়ে যে ‘ধারণা’ দিয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে ইরান মনে করে।
উল্লেখ্য, ৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও আলোচনার সুযোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে এটি বর্ধিত করেন। এখনো সেই যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আবারো উত্তেজনা এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ফের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা জেগে উঠেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর