লাইফস্টাইল ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০০ এএম
আজ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ায় দিনশেষে কেউ হাসবেন বিজয়ের হাসি, কেউবা পরাজয় মেনে নেবেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিজয়ের আনন্দ প্রকাশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো হাতের তর্জনী ও মধ্যমা উঁচিয়ে ‘ভি’ (V) চিহ্ন প্রদর্শন করা। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই চিহ্নের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস।
‘ভি’ চিহ্নের আদি কথা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
‘ভি’ চিহ্নের ব্যবহার মূলত জনপ্রিয়তা পায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ‘V’ বর্ণটি ইংরেজি শব্দ Victory (বিজয়), ফরাসি শব্দ Victoire এবং ডাচ শব্দ Vrijheid (স্বাধীনতা)-এর প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৪১ সালে বেলজিয়ামের সাবেক মন্ত্রী ভিক্টর ডি লাভেলি প্রথম প্রস্তাব করেন যে, নাৎসি বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বেলজিয়ানরা যেন ‘V’ চিহ্ন ব্যবহার করে।

চার্চিল ও চিহ্নের বিশ্বায়ন
তবে এই চিহ্নটিকে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। যুদ্ধের উত্তাল সময়ে ব্রিটিশদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি নিয়মিত জনসম্মুখে দুই আঙুল উঁচিয়ে ‘ভি’ প্রদর্শন করতেন। এরপর থেকেই এটি শুধু যুদ্ধের ময়দানে নয়, রাজনীতি এবং যেকোনো সাফল্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
শান্তি ও সংহতির প্রতীক হিসেবে রূপান্তর
বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে এই চিহ্নের সংজ্ঞায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকারীরা একে ‘পিস সাইন’ বা শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। বর্তমানে এটি একই সাথে বিজয়, শান্তি এবং সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।
আরও পড়ুন: ভোটের কালি কেন আঙুল থেকে সহজে মোছে না?
যেভাবে দেখাবেন এই চিহ্ন
ভি চিহ্ন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাতের তালুর অবস্থান। সাধারণত হাতের তালু বাইরের দিকে রেখে তর্জনী ও মধ্যমা উঁচিয়ে ধরা হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, অনেক সংস্কৃতিতে হাতের তালু নিজের দিকে রেখে এই চিহ্ন প্রদর্শন করাকে নেতিবাচক বা অপমানজনক মনে করা হয়। তাই বিজয় উল্লাসে তালু বাইরের দিকে রাখাই বিশ্বজনীন নিয়ম।
এজেড