ঢাকা মেইল ডেস্ক
২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে দেশের বিভিন্ন জাদুঘর ও প্রত্নস্থলে কর্মরত অনিয়মিত/মাস্টাররোল কর্মচারীদের সকল বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে চাকরি দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তরনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে রোববার (২৫ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন বিভাগের জাদুঘর ও প্রত্নস্থলে কর্মরত অনিয়মিত/মাস্টাররোল শ্রমিকরা জড়ো হয়ে আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এসময় অধিদফতরের ডিজি অতিরিক্ত সচিব সাবিনা আলম আশস্ত করলে তারা আজকের মতো কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
এর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবরে তাদের লিখিত নয় দফা দাবিনামা পেশ করেছেন। এসব দাবির অনুলিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছেন। এসব দাবি পূরণ না হলে শিগগির আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
অনিয়মিত মাস্টাররোল কর্মচারীদের লিখিত পত্রে জানা গেছে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনস্থ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৪০০ জনের অধিক অনিয়মিত কর্মচারী দেশের বিভিন্ন জাদুঘর ও প্রত্নস্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অধিকাংশ কর্মচারী জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় পার করে দিয়েছেন এই অধিদফতরে। এসব কর্মচারী স্বল্প বেতনে চাকরি করায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এই অধিদফতরের খুলনা ও বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ৩৩ জন কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে স্তানান্তরিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সমতা ও বৈষম্য দূর করতে সবাই তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

অনিয়মিত কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১। দৈনিক ৮০০/- (আটশত টাকা হারে) বেতন বৃদ্ধিকরণ
২। দু দুটি ঈদ বোনাস প্রদান
৩। নববর্ষ ভাতা প্রদান
৪। ৩০ দিনের হাজিরা প্রদান
৫। জাদুঘর ও প্রত্নস্থলে কর্মরত রাজস্ব খাতভুক্ত কর্মচারীদের মতো সবাইকে সপ্তাহে দেড় দিনের ছুটি প্রদান
৬। প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধকরণ
৭। বছরে ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি প্রদান
৮। কোনো কর্মচারীর মেডিক্যাল ছুটির প্রয়োজনসাপেক্ষে তাকে মেডিক্যাল ছুটি প্রদান
৯। সকলকে নিজ বাড়ির নিকটবর্তী জাদুঘর/প্রত্নস্থলে নিয়োজিত রাখা ইত্যাদি।
কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সংরক্ষিত প্রত্নস্থল মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী ও কবি দ্বিজবংশি দাস মন্দিরের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. আমিনুল হক বলেন, আমাদের কিশোরগঞ্জের গর্বই না, এশিয়া মহাদেশের স্বনামধন্য মধ্যযুগের কীর্তিময়ী কবি চন্দ্রাবতী ও তাঁর বাবা দ্বিজবংশি দাসের স্মৃতি বিজড়িত মন্দিরদ্বয়ের নিয়োজিত একজন সেবক হিসেবে নিজেকে গর্ববোধ করছি। তেমনি স্বল্প বেতনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসারের খরচ চালাতে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সংরক্ষিত প্রত্নস্থল বীর ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়ি ও চন্দ্রাবতীর স্মৃতি সংরক্ষণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও প্রত্ন উন্নয়নে নিষ্ঠার সাথে এক যুগের অধিক নিবেদিত হয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি। তাই আমাদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরনের স্বীকৃতি প্রদান এখন সময়ের দাবি।
জেবি