স্পোর্টস ডেস্ক
২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯ উইকেটে বড় হারের হতাশায় পুড়েছে দল। অজিদের হারের বৃত্ত থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নিজের তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামে টাইগ্রেসরা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুটা ছিল হতাশাজনক, তবে শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের দারুণ ব্যাটিংয়ে সম্মানজনক সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই টপ অর্ডারের ধসে চাপে পড়ে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান তোলে টাইগ্রেসরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলতে পারে পাকিস্তানের মেয়েরা। তাতে ২৩ রানে জয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে নিজের অবস্থান আরেকটু শক্ত করলো নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।
শনিবার সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ইনিংসের শুরুতেই বিপদে পড়ে দল। মাত্র ১৩ রানের মধ্যেই ফিরে যান তিন ব্যাটার। দিলারা আক্তার ৫ রান, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৭ রান এবং শারমিন আক্তার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।
প্রথম দিকের ধাক্কা সামাল দিতে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে কিছুটা স্থিতি এলেও রান তোলার গতি খুব বেশি বাড়েনি। জ্যোতি ৩৮ বলে ৩৬ রান করেন, আর মোস্তারি ১৯ বলে ২২ রান যোগ করে আউট হন।
তবে ইনিংসের শেষভাগে ব্যাট হাতে দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখেন স্বর্ণা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। শেষদিকে রাবেয়া খান ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। স্বর্ণার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ লড়াই করার মতো একটি স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে ফাতিমা সানা সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া সাদিয়া ইকবাল, তাসমিয়া রুবাব, নাশরা সান্ধু ও তুবা হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
রান তাড়ায় পাকিস্তানকে শুরুতে চাপ তৈরি করেন মারুফা আক্তার। নিজের প্রথম ওভারেই কোনো রান না দিয়ে মেইডেন আদায় করেন তিনি। তবে উদ্বোধনী জুটিতে গুল ফিরোজা ও মুনিবা আলি দ্রুত রান তুলে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪১ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
তবে পাওয়ারপ্লের পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদা আক্তার। প্রথমে ১৮ বলে ২৩ রান করা গুল ফিরোজাকে ফেরান তিনি। এরপর নিজের পরের ওভারেই ৩০ বলে ২৫ রান করা মুনিবা আলিকেও সাজঘরের পথ দেখান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। তিন নম্বরে নামা আয়েশা জাফর ১২ বলে ১১ রান করে ফেরেন সানজিদা আক্তার মেঘলার বলে। একই ওভারে আলিয়া রিয়াজকেও আউট করেন মেঘলা। ফলে ৭০ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।
মধ্য ও নিম্নক্রমের ব্যাটাররা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে জয়ের পথ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। রাবেয়া খান ইরাম জাভেদকে ফিরিয়ে দেন, আর নিজের স্পেলে একটি উইকেট-মেইডেন ওভারও করেন তিনি।
শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে আউট করে দেন নাহিদা। ১৭ বলে ১০ রান করা ফাতিমার বিদায়ের পর ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
শেষ দুই ওভারে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রয়োজনীয় রানরেট নাগালের বাইরে চলে যায় পাকিস্তানের। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৩০ রান দরকার হলেও মারুফা আক্তারের সামনে সেই লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ২৩ রানের দারুণ এক জয় উদযাপন করে বাংলাদেশ।