Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

বিদেশি বিনিয়োগে উৎপাদিত ফোনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনে নিন্দা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

সম্প্রতি মোবাইল ফোন শিল্পকে সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম কার্যকর করেছে। পাশাপাশি বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে এই শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সাধুবাদ জানিয়েছে। 

বাংলাদেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের পরও কিছু অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে। এ সময় তারা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এবং দেশে বিভিন্ন জায়গায় বৈধ ফোনের দোকানগুলোকে জোরপূর্বক করে বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং মব সৃষ্টি করে ভাংচুর করা হয়েছে। এতে স্থানীয় স্মার্টফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ব্যাপক আর্থিক এবং মানুষিক ক্ষতির সম্মুখীন হেয়েছে এবং স্মার্টফোনের ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। 

download

ফিকির তথ্য মতে, বর্তমানে ১৮টি উৎপাদনকারী কারখানার সমন্বয়ে বাংলাদেশের মোবাইল শিল্প শক্তিশালী একটি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে চারটি প্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ সহ ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ রয়েছে এবং ৫০ হাজারেও বেশি দক্ষ শ্রমিকের সরাসরি, পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ ৫০ হাজার জনের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। 

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই খাতে প্রায় ৩০% নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এই শিল্প থেকে সরকার বছরে ২০০০ কোটি টাকার বেশি কর, ৫০০ কোটি টাকার মজুরি এবং ৪০০ কোটি টাকার ইউটিলিটি বিল পেয়ে থাকে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

আরও পড়ুন: আপনার স্মার্টফোনটি বৈধ কিনা কীভাবে জানবেন?

ফিকির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে পরিচালিত স্মার্টফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো মূলত বিদেশি ব্র্যান্ড, যারা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এর মাধ্যমে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এই অরাজকতার ফলে ব্যবাসা বন্ধের যে উপক্রম হয়েছে তা বহিঃবিশ্বে দেশের ভামূর্তী নষ্ট করছে এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাদের এই কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে এই খাতে বিনিয়োগকারী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে এই সহিংস ও নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি যাতে বৈদেশিক বিনিয়গের সুষম পরিবেশ বহাল থাকে।’

এজেড