Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

এআই সুনামির সতর্কবার্তা আইএমএফ প্রধানের: বিশ্বে ৪০ শতাংশ চাকরি ঝুঁকিতে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি জানিয়েছেন, এআই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যাকে তিনি কর্মসংস্থানের বাজারে একটি ‘সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: সুযোগ বনাম ঝুঁকি

জর্জিভিয়েভার মতে, এআই বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, যা কোভিড-১৯ পরবর্তী স্থবির অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করবে। তবে এই উন্নতির মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো কর্মসংস্থান হারানো। আইএমএফ-এর গবেষণা বলছে:

উন্নত দেশগুলোতে: প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরি এআই দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

1_hMoE0TVhCDbDTejxRNOLGw

উদীয়মান অর্থনীতিতে: এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ।

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে: প্রভাব পড়বে প্রায় ২৬ শতাংশ চাকরিতে।

একই অনুষ্ঠানে ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি এবং মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনীত চন্দোক জানান, এআই কেবল চাকরি ধ্বংস করবে না, বরং কাজের ধরন বদলে দেবে। তাদের মতে, কোডিং বা গতানুগতিক কাজের চেয়ে এআই সিস্টেম পরিচালনা ও সমন্বয়ে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়বে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে তরুণ জনশক্তির বড় অংশ ফ্রিল্যান্সিং, আইটি সেক্টর এবং আরএমজি (পোশাক খাত) ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এআই-এর প্রভাব হবে বহুমুখী-

১. ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাত: বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ বর্তমানে বিশ্ববাজারে কোডিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ করছেন। এআই-এর ফলে এই সাধারণ কাজগুলোর চাহিদা কমে যেতে পারে। ফলে দ্রুত ‘আপস্কিলিং’ বা দক্ষতা বৃদ্ধি না করলে বড় সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে।

1693142829057

২. টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি: একজন টেলিকম এক্সপার্ট হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, গ্রাহক সেবা (Chatbots) এবং নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্টে এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। এতে কায়িক শ্রমের প্রয়োজনীয়তা কমছে।

৩. কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ: এআই শুধু ঝুঁকি নয়, আশীর্বাদও হতে পারে। স্মার্ট কৃষি বা প্রিসিশন ফার্মিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি উদ্যোক্তারা ফসলের রোগ নির্ণয় ও ফলন বৃদ্ধিতে এআই ব্যবহার করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারেন।

আরও পড়ুন: এবার মহাকাশ জয় করতে যাচ্ছে আইফোন

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর এই ‘সুনামি’ থেকে বাঁচতে হলে শিক্ষা এবং কর্মপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু কোড লেখা বা তথ্য সাজানো নয়, বরং এআই-কে টুল হিসেবে ব্যবহার করে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে—এমন জনশক্তি তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এজেড