তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৭ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও একবার উজ্জ্বল করলেন দেশের অন্যতম ‘মাইক্রোটিক সনদপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক’ তিতাস সরকার। সম্প্রতি চীনে আয়োজিত একটি উচ্চতর মাইক্রোটিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তিনি সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। এই বিশেষ সেশনে চীনের স্থানীয় নেটওয়ার্কিং প্রকৌশলী, পেশাজীবী ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা অংশ নেন।
তিতাস সরকার বাংলাদেশভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘টি-সফট আইটি’ (TSoft IT)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। তিনি মাইক্রোটিক-এর সবকটি (১০টি) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সনদ অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তার এই বৈশ্বিক সাফল্যের তালিকায় এবার যুক্ত হলো প্রযুক্তির অন্যতম পরাশক্তি চীন।
আন্তর্জাতিক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে তিতাস সরকার বলেন, "প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্কিং জ্ঞানের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। বাংলাদেশের একজন প্রশিক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের দেশের দক্ষতা ও সক্ষমতা তুলে ধরতে পারাটা শুধু আমার একার নয়, পুরো দেশের জন্যই অত্যন্ত গর্বের। আমার লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর এই জ্ঞানকে বিশ্বজুড়ে যত বেশি সম্ভব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।"
চীনে আয়োজিত এই সেশনে মাইক্রোটিক রাউটার পরিচালন ব্যবস্থা (RouterOS), নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা এবং আধুনিক যোগাযোগ কৌশলের ওপর হাতে-কলমে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিতাস সরকার জানান, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে চীনের মাইক্রোটিক দল ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে একটি মজবুত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।
দেশের প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিতাস সরকারের এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিপ্রেমী ও নেটওয়ার্কিং পেশাজীবীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। একই সাথে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতার এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।
উল্লেখ্য, তিতাস সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষায় নেটওয়ার্কিং শিক্ষাকে সহজ ও সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর রচিত "মাইক্রোটিক রাউটার নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড সিকিউরিটি" বইটি ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমী ও পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
এজেড