Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

ইন্টারনেটের ‘জিপিএস’ ও বিজিবি হাইজ্যাকিং: বিষয়টি আসলে কী?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২০ জুন ২০২৬, ০২:২০ পিএম

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের সাম্প্রতিক অভিযোগে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে ‘বিজিপি হাইজ্যাকিং’ (BGP Hijacking) বা ইন্টারনেটের রাউটিং বিভ্রাট। প্রযুক্তি জগতে প্রশ্ন উঠেছে, বিজিপি হাইজ্যাকিং আসলে কী এবং এটি কীভাবে ইন্টারনেটের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিজিপি বা ইন্টারনেটের ট্রাফিক নির্দেশিকা

বিজিপি (BGP) বা বর্ডার গেটওয়ে প্রোটোকল হলো ইন্টারনেটের বিশাল নেটওয়ার্কের ট্রাফিক নির্দেশিকা। এটি নির্ধারণ করে দেয়, ইন্টারনেটের তথ্যগুলো কোন রাস্তা ধরে গন্তব্যে পৌঁছাবে। বিশ্বের হাজার হাজার টেলিকম সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে এই প্রোটোকলের মাধ্যমে। এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য একে অনেকেই ইন্টারনেটের ‘জিপিএস’ বলে থাকেন। অনেকটা কুরিয়ার সার্ভিসের মতো, যেখানে একটি পার্সেল যেমন বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছায়, ইন্টারনেটের ডেটাগুলোও ঠিক সেভাবেই আদান-প্রদান হয়।

বিজিপি হাইজ্যাকিং যেভাবে ঘটে

১৯৮০-র দশকে তৈরি এই প্রোটোকলটি মূলত বিশ্বাসভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নেটওয়ার্কগুলো একে অপরের দাবিকে সহজে বিশ্বাস করে নেয়। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কোনো নেটওয়ার্ক যদি ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন রুট ঘোষণা করে যা আসলে তার নয়, তখনই ঘটে বিজিপি হাইজ্যাকিং। এর ফলে ইন্টারনেট ট্রাফিক ভুল পথে প্রবাহিত হয়, ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ধীরগতি হয়ে যায় এবং পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ

বিজিপি হাইজ্যাকিং মানেই যে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হবে—বিষয়টি সবসময় তেমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি কারিগরি রাউটিং বিভ্রাট হিসেবে গণ্য হয়। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগের কারণ হলো, ইন্টারনেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা এখনো এমন একটি বিশ্বাসনির্ভর প্রোটোকলের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য ভুল বা ইচ্ছাকৃত অপব্যবহারের প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাউটিং বিভ্রাটের নজির তৈরি করেছে। তাই টেলিগ্রাম-জিয়ো বিতর্কের বাইরেও এই প্রযুক্তিগত দুর্বলতা সারা বিশ্বের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছে আলোচনার ও সতর্কতার একটি বড় বিষয়।

এজেড