গত দুই সপ্তাহ ধরে জামালপুরের বকশীগঞ্জের লোকালয়ে অবস্থান করছে ভারতীয় বন্য হাতির দুইটি দল। খাদ্যের সন্ধানে গারো পাহাড়ে হাতির চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। নষ্ট হয়েছে সদ্য রোপণ করা ধানসহ সবজির খেত। হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব থামানোর দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে- ক্ষতি পোষাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করবেন তারা।
ক্ষুধার তাড়নায় দল বেঁধে ভারত ছেড়ে জামালপুরের বকশীগঞ্জের গারো পাহাড়ে নেমে এসেছে বন্য হাতির পাল। পেট ভরাতে চিবিয়ে খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। চোখের সামনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কষ্টে বোনা ফসল।
![]()
গত দুই সপ্তাহ ধরে উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থান করছে প্রায় ৩০টি হাতির দুইটি দল। দিনের বেলা কিছুটা গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও বিকেলের পর এরা নেমে আসে লোকালয়ে। পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে সদ্য রোপণ করা ধান। এছাড়াও বেগুনের খেত আর আলুর খেত এসব হাতির প্রিয় জায়গা ও প্রিয় খাবার। সম্প্রতি বসতবাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করে স্থানীয়রা।
![]()
আগুন জ্বালিয়ে এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে রাত জেগে পাহারা দিয়েও হাতির আক্রমণ ঠেকাতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নিয়ে শঙ্কিত পাহাড়ি এলাকার মানুষ। তাদের দিন কাটছে শঙ্কায়, রাত কাটছে নির্ঘুম। এতে কামালপুর ইউনিয়নের শোমনাথপাড়া, অশেনা কোনা, সাতানীপাড়া, টিলাপাড়া, দিঘলা কোনা ও সোমনাথ পাড়াসহ সীমান্তবর্তী ১০ গ্রামের মানুষের মধ্যে হাতি আতঙ্ক বিরাজ করছে।
![]()
কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ১০-১১ দিন ধরে হাতির পাল পাহাড়ের টিলায় অবস্থান করছে। রাতে নেমে আসছে লোকালয়ে। ফসল বাঁচাতে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। আগুন জ্বালিয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু হাতির তাণ্ডব থামানো যাচ্ছে না।
কৃষক সুলতান হক বলেন, প্রতিবছরই হাতি আমাদের ফসল বিনষ্ট করে। ধান পাকা শুরু হলে হাতি আসে। এবার আগেই চলে এসেছে। ফসলের ক্ষতির কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এ এলাকার মানুষের।
![]()
এ ব্যাপারে ধানুয়া কামালপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল বলেন, সীমান্তে হাতিই এখন বড় সমস্যা। সময় অসময়ে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে গাছপালা, ফসল এমনকি বাড়িঘরেও হামলা চালাচ্ছে। এই সমস্যা আসলে দীর্ঘদিনের। হাতি সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব থামাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন জন্য কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রতিনিধি/এসএস




