একটু বৃষ্টিতে মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টির পানি নামতে লাগে ২-৩ দিনেরও বেশি সময়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় পৌরবাসীকে। দীর্ঘদিনেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পানিছত্র এলাকার শহীদ সূর্য সড়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরদার সড়ক। মঙ্গলবারের দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে আছে এখানকার দুটি সড়ক ও তার আশপাশের এলাকা। পানি নামতে না পারায় চরম দুর্ভোগে আছেন বাসিন্দারা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর যাও আছে তাও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। তাই একটু বৃষ্টি হলেও হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় সড়ক। বাসা-বাড়িতেও জমে পানি।
![]()
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কর, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ, রাজস্বসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছরই শত কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে পৌর কর্তৃপক্ষ। অথচ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা ও যত্রতত্র জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণেই বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় এমন নাজুক অবস্থা। ফলে দুর্ভোগের শেষ নেই যাত্রী, চালক ও পথচারীর। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারাও।
পানিছত্র এলাকার বাসিন্দা পলি আক্তার বলেন, একঘণ্টা বৃষ্টি হয়, আর সড়কে পানি থাকে দুই থেকে তিনদিন। জলাবদ্ধতার কারণেই ভোগান্তির শেষ নেই। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই।
![]()
স্থায়ী বাসিন্দা ডা. অখিল সরকার বলেন, আমি এই এলাকায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছি। গত দুই বছর ধরে দেখছি একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়। তাৎক্ষণিক পানি সরে যাওয়ার কোনো উপায় দেখছি না। হাঁটুপানিতে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কবে এর থেকে মুক্তি মিলবে, সেটি বুঝতে পারছি না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরদার সড়ক এলাকার বাসিন্দা পরাণ চক্রবর্তী বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় এভাবে জলাবদ্ধতা মেনে নেওয়া যায় না। পৌর কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। আমরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।
যদিও সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন মাদারীপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুল আলম। তিনি বলেন, আগের থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেশ উন্নত হয়েছে। বৃষ্টির পানি এক থেকে দুইঘণ্টার মধ্যে সরে যাচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘসময় যদি কোথাও পানি থাকে, তাহলে খবর পেলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুতই এর সমস্যা সমাধান করছে।
![]()
প্রসঙ্গত, মাদারীপুর পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়ে ১৪ বর্গ কিলোমিটারের মাদারীপুর পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পায়।
প্রতিনিধি/টিবি




