বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সিরাজগঞ্জে সেচের অভাবে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

ইউসুফ দেওয়ান রাজু, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

সিরাজগঞ্জে সেচের অভাবে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা
সিরাজগঞ্জে সেচের অভাবে বোরো উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পর এবার তীব্র ডিজেল সংকটে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকরা। বোরো চাষের ভরা মৌসুমে পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল। বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে সেচ দিতে গিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলার হাজারো চাষি। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি ফলন উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।

কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় সারের দাম বস্তাপ্রতি ক্ষেত্রবিশেষে হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তৈরি হওয়া ডিজেল সংকট কৃষকদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

9a8dc070-459a-44a0-8b23-2062aa098e48

কৃষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় সারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো সারে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে হাজার টাকাও। এর মধ্যে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে ডিজেল সংকট। অনেক কৃষক টাকা ও বোতল নিয়ে ডিজেলের জন্য পাম্প স্টেশনে ঘুরে ঘুরে খালি হাতে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ গ্রামের খুচরা দোকান থেকে ৫০-৬০ টাকা অতিরিক্ত দামে অল্পকিছু ডিজেল ক্রয় করছেন। তবে এটিও তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এতে চারা প্রস্তুত থাকলেও অনেক কৃষক সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ চারা রোপণ করলেও পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারছেন না।

ce4175dd-2503-4252-9fd1-99967e8cc141

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শস্য ভান্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জে ডিজেল সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষিখাতে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। এরমধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে চলছে ৩৬ হাজার ১১৭টি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এসব পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধানের শীষ আসার গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে সেচ পাম্প চালু রাখতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকেরা।

কৃষক সেরাজুল ইসলাম বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার বোরো ধান উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। তাও আবার সঠিকভাবে এবার ধান ঘরে তুলতে পারব কিনা সেটাও বলতে পারি না। কারণ ডিজেল সংকটে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।‌

fd5830a7-49b3-4805-bc1a-e853d36c4279

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ লিটার ডিজেল লাগে জমিতে সেচ দিতে। গতকাল চরে থেকে তিন লিটার ডিজেল কিনে এনেছি ১৩০ টাকা করে যা আগে কিনতাম ১০৫ টাকা লিটার করে। ডিজেল সংকটের কারণে সঠিকভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছি না। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ফসল ঘরে তুলতে পারবো না। এতে আমাদের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পৌঁছে দিতে  প্রশাসন এবং সেচ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে। ফুয়েল কার্ডের মতো আমরাও কৃষকদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করে জমিতে সেচ কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

চর অঞ্চলের কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের একটি অংশ পেট্রোল পাম্পগুলোতে ট্যাপ অফিসার হিসেবে কাজ করছেন যার কারণে অনেক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষকরা যদি আমার সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে তাহলে অবশ্যই তাদের ডিজেল সংগ্রহের জন্য কার্ড দেওয়া হবে। ডিজেল যেন তারা পায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর