অভাব-অনটনের সংসার। মাথার ওপর বাবার ছায়াও নেই। ছোট্ট এক টুকরো জমি চাষাবাদ আর সেলাই মেশিন চালিয়েই চলতো চার সদস্যের পরিবার। সেই সংগ্রামী জীবনকে সঙ্গী করেই এবার বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার তরুণ মো. মারুফ (১৯)।
মারুফের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের শেখ বাড়িতে। তার বাবা মৃত মতিউর রহমান এবং মা মোসা. পাখি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ছোট বোন হিরা মণি। বাবার রেখে যাওয়া অল্প কিছু জমিতে চাষাবাদ এবং সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মারুফ। স্বপ্ন ছিল পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর। সেই স্বপ্নই তাকে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ পুলিশের চাকরির দ্বারপ্রান্তে।

স্বজনরা জানান, অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের মারুফ ছোটবেলা থেকেই সংসারের হাল ধরেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশের চাকরিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
এদিকে পুলিশের চাকরিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আবেগাপ্লুত মারুফ বলেন, আমি কখনো ভাবিনি এত বড় একটি জায়গায় আসতে পারব। আল্লাহর রহমত, মায়ের দোয়া আর সবার সহযোগিতায় আজ এখানে পৌঁছেছি। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করতে চাই।

বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ উপলক্ষে বরগুনা জেলা পুলিশ লাইন্সে সোমবার ফলাফল প্রকাশ ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম জানান, গত ০৫ জানুয়ারি থেকে ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ সময় বরগুনা জেলা থেকে মোট ১১৫৪ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

তিনি জানান, ২১ এপ্রিল মাঠ পরীক্ষার প্রথম দিনে ৮২৪ জন উপস্থিত হয়ে ৬০৬ জন উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয় দিন ২২ এপ্রিল ৫৯২ জন অংশ নিয়ে ৪৩৫ জন এবং তৃতীয় দিন ২৩ এপ্রিল ৪২৮ জনের মধ্যে ২৮৫ জন উত্তীর্ণ হন। যদিও লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন করেন ২৮৩ জন এবং পরীক্ষায় অংশ নেন ২৮০ জন প্রার্থী।
গত ৯ মে বরগুনা পুলিশ লাইন স্কুলে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার উত্তরপত্র কোডিং করে একই দিন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মূল্যায়ন শেষে ডি-কোডিং করে সোমবার সকাল ৯টায় ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা (পিপিএম) বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ এখন শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে। এখানে কোনো প্রকার তদবির বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ও যোগ্য ছেলেমেয়েরা যেন নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। মারুফের মতো সংগ্রামী তরুণদের সফলতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও বলেন, অদ্য ১৮ মে মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে মোট ১৭ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে এবং ৩ জনকে অপেক্ষমাণ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাদের চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




