বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নীত হবে: এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নীত হবে: এডিবি
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হবে এবং ২০২৬ অর্থবছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫ শতাংশে—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে একাধিক বাধা ও ঝুঁকির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, বন্যা, শিল্প খাতে শ্রম বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। এসব কারণ মিলিয়ে অর্থনৈতিক গতি শ্লথ হয়েছে।

এডিবির ঢাকা কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের প্রত্যক্ষ কোনো প্রভাব না থাকলেও ভবিষ্যতে এই প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে যে দুর্বলতা রয়েছে, তা মোকাবিলা না করলে প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে হলে এই চ্যালেঞ্জগুলো এখনই সমাধানে নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ।

এডিবি মনে করে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি মূলত নির্ভর করবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর। এ লক্ষ্যে সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিতে স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার কার্যক্রমে গতি আনা জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, তথ্যপ্রবাহের সীমাবদ্ধতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ২০২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যা ২০২৪ অর্থবছরের ৯.৭৭ শতাংশের তুলনায় বেশি।

চলতি হিসাবে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ অর্থবছরে যেখানে জিডিপির তুলনায় চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ১.৫ শতাংশ, সেখানে ২০২৫ অর্থবছরে তা সামান্য উদ্বৃত্তে জিডিপির ০.০৩ শতাংশে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্য ঘাটতির সংকোচন।

২০২৬ অর্থবছরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এডিবি বলেছে, ভোগব্যয় হবে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি ব্যয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, যা ভোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কঠোর আর্থিক ও রাজস্ব নীতির কারণে বিনিয়োগে সতর্কতা দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় রফতানির দামে প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা করছে এডিবি। সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানিপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ার সম্ভাবনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কড়াকড়ি শর্তের কারণে রফতানি আয় কমে যেতে পারে। এমন অবস্থায় রফতানিকারকরা ইউনিটপ্রতি পণ্যের দাম কমিয়ে বাজার ধরে রাখতে বাধ্য হতে পারেন।

প্রতিযোগিতা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে, নীতিগত স্থিতিশীলতা আনতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতে সংস্কার আনতে হবে বলেও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) বর্তমানে ৬৯টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। সংস্থাটি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে থাকে। উন্নয়ন কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা, পরামর্শ, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর পাশে রয়েছে সংস্থাটি। 

এইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর