বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দুই দিনে ১২০০ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য জানাল ইসলামী ব্যাংক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

দুই দিনে ১২০০ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য জানাল ইসলামী ব্যাংক
ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসেইন। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে গত দুই কার্যদিবসে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আমানত উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসেইন। তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলতাফ হুসেইন বলেন, কোনো দিন ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, কোনো দিন ৯০০ কোটি টাকা, আবার কোনো দিন ৮০০ কোটি টাকার মতো অর্থ উত্তোলন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন নিট ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা উত্তোলনের চাপ রয়েছে।

তিনি জানান, তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো ইসলামী ব্যাংককে নগদ সহায়তা (ক্যাশ সাপোর্ট) দিয়েছে। ওই অর্থ পাওয়ার পর লেনদেন পরিস্থিতি এবং তা দিয়ে কতটা চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আলতাফ হুসেইন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়েও গভর্নরকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে ব্যাংকের কত পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়েও একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ইস্যু। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকে শুধু ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও তারল্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। চলতি হিসাব ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করার কাজ চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Islami-Bank
ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল সেবা প্রসঙ্গে আলতাফ হুসেইন বলেন, ‘সেলফিন’ অ্যাপে কোনো সমস্যা নেই এবং অভ্যন্তরীণ লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে তা দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য কাজ চলছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী ব্যাংক হিসেবে রেমিট্যান্স সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বৈদেশিক আয়ের অর্থ পরিশোধ কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

চেক ক্লিয়ারিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আলতাফ হুসেইন বলেন, চেক ক্লিয়ারিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং আগের দিনের বকেয়া চেকও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তারল্য সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি। বর্তমান সংকট ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।

টিএই/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর