আজ মঙ্গলবার ঢাকা প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ' হলে ‘লাইসেন্সধারী বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মালিক সমিতি বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কয়েক শত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দেশের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর প্রস্তাবিত পিস্তল ও রিভলভারের জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য বার্ষিক ৫০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর (AIT) আরোপের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন সংগঠক জনাব মোঃ কামরুদ্দিন রাশেদ। আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর আরোপের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন। কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে, প্রস্তাবিত এই কর ও ফি দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
সংগঠনের মুখপাত্র ও সংগঠক মাহবুব এ খোদা জুয়েলকে সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তসহ বক্তব্য তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, “বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল কোনো দেশেই আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর ‘অগ্রিম আয়কর’ (AIT) দেওয়ার নজির নেই। এশিয়া মহাদেশের বেশিরভাগ দেশে যেখানে লাইসেন্স নবায়ন ফি ৫,০০০ টাকার নিচে, সেখানে বাংলাদেশে তা পিস্তল ও রিভলভারের জন্য ২০,০০০ টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ১০,০০০ টাকা—যা ইতিমধ্যে অত্যন্ত উচ্চমূল্য। বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী ১ লক্ষ ও ৫০ হাজার টাকা আয়কর আরোপ করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন এবং সাধারণ নাগরিকের জন্য অসহনীয়।
তিনি আরও বলেন, এই অতিরিক্ত কর ও ফি আরোপের ফলে অনেক লাইসেন্সধারী বাধ্য হয়ে তাদের বৈধ অস্ত্র সারেন্ডার করতে বাধ্য হবেন। এর ফলে একদিকে যেমন তারা তাদের আত্মরক্ষার অধিকার হারাবেন, অন্যদিকে সামাজিকভাবেও তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। যে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের নিয়ম মেনে অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন, তাদের ওপর এমন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা তাদের সামাজিক অবস্থানের জন্য অবমাননাকর।
জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এই করের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থিরতায় থানা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সন্ত্রাসীরা বৈধ অস্ত্রধারীদের উপস্থিতির ভয়ে জনসম্মুখে সেগুলো ব্যবহার করতে সাহস পাচ্ছে না। বৈধ অস্ত্রধারীরাই বর্তমানে এক অদৃশ্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছেন। এখন করের চাপে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র সারেন্ডারে বাধ্য করা হলে সন্ত্রাসীরা অবাধ সুযোগ পাবে, যা দেশে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
পরিশেষে, শুটিং খেলোয়াড়দের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাবের ওপর এই অতিরিক্ত কর আরোপ হলে মেধাবী শুটাররা খেলাধুলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফ উল ইসলাম (সোহেল)। তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন অবিবেচনাপ্রসূত ও অত্যধিক করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি সরকারের এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে এই কর প্রস্তাব ও বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান।
লাইসেন্সধারী বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মালিক সমিতির দাবিসমূহ:
১. বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীদের ওপর আরোপিত পিস্তল ও রিভলভারের জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ৫০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়করসহ সকল অতিরিক্ত ফি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যোগ্য নাগরিকদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও শিথিল করতে হবে।
৩. লাইসেন্সধারীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটি বাস্তবসম্মত, আধুনিক এবং নিরাপত্তা-বান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
৪. বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনে নিবন্ধিত সকল শুটারের ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি সহ সকল প্রকার ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করে শুটিং ক্রীড়ার যথাযথ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।




