বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পুনর্বিবেচনায় অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পুনর্বিবেচনায় অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীরা। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান বিধিমালার কিছু ধারা কার্যকর হলে ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো পুঁজিবাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিধিমালাটি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়। এতে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি ম. জহুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ নিরসনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড অবসায়ন ও রূপান্তরের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামত ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ উপেক্ষা করে কমিশনের একটি অংশ বিধিমালাটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।

তিনি জানান, বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অবসায়ন ও রূপান্তর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে বিনিয়োগকারীরা আদালতের শরণাপন্ন হলে প্রথমে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে বিএসইসির আবেদনের পর চেম্বার আদালত সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

বক্তারা বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫-এর ৬২(২) ধারায় বাজারমূল্য বা লেনদেন মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের তুলনা করে ফান্ড অবসায়ন বা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের যে বিধান রাখা হয়েছে, তার কোনো আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত নেই। তাদের মতে, বাজারমূল্য সম্পদ ব্যবস্থাপকের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। বরং ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ও ফেস ভ্যালুর ভিত্তিতে ফান্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা অধিক যৌক্তিক।

সেমিনারে সতর্ক করে বলা হয়, ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসায়ন বা রূপান্তর করা হলে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে এসব ফান্ডের অধীনে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ার রয়েছে, যা দেশের পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, ফান্ডের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। এতে সূচক নিম্নমুখী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তার মতে, আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে বাজারে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার স্বার্থে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিনিয়োগকারী ঐক্য ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যতম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট তাদের ফান্ড চালুর পর থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ বিতরণ করেছে, যা এ খাতের সক্ষমতার প্রতিফলন।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসির সাম্পতিক নির্দেশনা বাতিল এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

এমআর/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর