বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দেবে দেশের টেক্সটাইল শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দেবে দেশের টেক্সটাইল শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী 

দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক, টেকসই এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আগামীর বিশ্বে টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক এবং শিল্পখাতের নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’ 

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সম্মেলনের (আইসিটিএসই-২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। তবে বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই শিল্পে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় অংশ নারী। তাদের শ্রম ও অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতি। তাই টেক্সটাইল খাতকে আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’ 

বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে বুটেক্সের অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল, যে অত্যন্ত সুন্দর কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেছিল। তার পোষাক শ্রীহীন ছিলো। পরে জানতে পারি শিক্ষার্থীটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকার সময় সিলেট কারাগারে সেই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবার দেখা হয়। তখন ওই তরুণ তাকে জানায়, পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সে বিডিআরে (বর্তমান বিজিবি) যোগ দিয়েছিল। ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যে দেশের অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণী এখনও দারিদ্র্যের কারণে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।’  

IMG_6063

বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট টেক্সটাইল, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন শিল্পখাতকে নতুন যুগে নিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত শুধু রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও। তাই টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’ 

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, ডিজিটাল রিসোর্স এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট টেক্সটাইল প্রযুক্তি শিল্পখাতকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকেও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে হবে।’ 

ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর অনেক শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্রে গিয়ে শেখা বিষয়গুলোর সঙ্গে বাস্তব কাজের অমিল অনুভব করে। এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মমুখী পাঠক্রমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়কে একইসঙ্গে জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে, সেই জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে এবং শিক্ষার্থীরা কর্মবাজারে নিজেদের সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে—এটাই উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য।’

ড. মামুন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত এবং সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি, নতুন উদ্ভাবন ও নতুন সম্ভাবনার পথপ্রদর্শক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।’ 

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সম্মেলনে টেক্সটাইল বিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্মার্ট টেক্সটাইল, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে জার্মানির হকশুলে নিডাররাইন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. বাস্টিয়ান কোয়াটেলবাউম এবং নেদারল্যান্ডসের ওএফআই-এর বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক প্রধান মিশিয়েল কোকেন বিশেষ বক্তা ছিলেন। 

এম/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর