রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬।
শনিবার (২০ জুন) রূপনগরের কলেজ মিলনায়তনে ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির প্রসার, ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হামিদুল হক মানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি মো. শাকিল মোল্লা ও শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ।
দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল আদর্শ শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, সৃজনশীল শিক্ষক হিসেবে গড়ে ওঠার কৌশল, এমইউবিসি-অ্যাপসের ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রয়োজনীয়তা ও প্রয়োগ।
বিভিন্ন সেশনে প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এডিসফট লিমিটেডের প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। বিশেষ করে ‘এআই পরিচিতি ও শিক্ষায় এআইয়ের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ক সেশনটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। এ সময় পাঠদান কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষকদের নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হামিদুল হক মানিক বলেন, ‘বর্তমান সময় প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের যুগ। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
অভিভাবক প্রতিনিধি মো. শাকিল মোল্লা বলেন, 'একজন অভিভাবক হিসেবে আমি মনে করি, দক্ষ ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।'
শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ বলেন, 'শিক্ষকতা একটি ধারাবাহিক শেখার প্রক্রিয়া। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও কার্যকর ও আনন্দময় শিক্ষা দেওয়া সম্ভব।'
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।'
এম/এমএইচআর




