বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সাক্ষাৎকার

ট্রমা নিয়ে ঘরে বন্দি থাকলে ভক্তদের সঙ্গে অবিচার করা হতো: ফারিয়া

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ট্রমা নিয়ে নিজেকে ঘরে বন্দি রাখলে ভক্তদের সঙ্গে অবিচার করা হতো’
নুসরাত ফারিয়া
এবার ঈদে নুসরাত ফারিয়া যেন এলেন গাইলেন জয় করলেন। শ্রোতারা এখনও দুলছেন ‘লোকে বলে’র তালে। বেশ উচ্ছ্বসিত ফারিয়া। গতকাল বুধবার সে উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিলেন ঢাকা মেইলের সঙ্গে। উঠে এলো পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনেরও নানা দিক। 

অন্যরা যখন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত তখন আপনি গানেই ঈদ জমিয়ে দিলেন। কেমন লাগছে ব্যাপারটা? 

ভালো লাগছে। সবাই আমাকে এরকম ক্রেডিট দিচ্ছেন। এটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। তবে আমার মনে হয় সিনেমাগুলো সিনেমার জায়গায়। কিন্তু গানটি সবার মন ছুঁয়ে গেছে।

এখনও শ্রোতারা দুলছেন… 

খুব এনজয় করছি। ভেবেছিলাম বিশ্বকাপের জন্য হয়তো উন্মাদনায় ভাটা পড়বে। কিন্তু উল্টো হচ্ছে। আজ (গতকাল বুধবার) ঘুম থেকে উঠে দেখলাম টিকটকে দর্শক সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সব মাধ্যম মিলিয়ে ভিউয়ের সংখ্যা ১১ মিলিয়নের ঘরে। এটা আমার একার কৃতিত্ব না। গানটির সঙ্গে যারা জড়িত আছেন সবার জন্যই বিগ অ্যাচিভমেন্ট। 

pink

এরপর কী নিয়ে আসছেন? 

সবসময় বলি আমি যখন আসব তখন আসার মতো করে আসব। এই মুহূর্তে ‘লোকে বলে’ চলছে। দুটি ছবি মুক্তি অপেক্ষায় আছে। একটির নাম ‘রকস্টার’। কলকাতার সিনেমা। পরিচালক আয়ুষ্মান প্রত্যুষ। আমার সঙ্গে আছেন যশ দাশগুপ্ত। ছবিটি কয়েক বছর আগের। রিব্র্যান্ডিং করে শিগগিরই মুক্তি দেওয়ার কথা। তাছাড়া ‘ঠিকানা ৭১’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। আমার সঙ্গে আছেন আরিফিন শুভ। মুক্তির দিনক্ষণ প্রযোজনা সংস্থা বলতে পারবে। গানগুলো আমার হাতে থাকলেও সিনেমাগুলো আমার হাতে থাকে না। 

বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের মানুষজনের সঙ্গে দেখা হয়। সেসব ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের প্রস্তাব পান?   

এরকম প্রস্তাব সচরাচর পাই। আমার গানগুলো এডিট হয় মুম্বাইয়ে। এডিটিং প্যানেলে আমাকে দেখে টেকনিশিয়ানরা বিশেষ করে পরিচালক, সহকারী পরিচালক বিশ্বাস-ই করেন না আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। ভাষার পার্থক্য ছাড়া সেরকম পার্থক্য তারা পান না। তখন অ্যাপ্রিশিয়েট করেন। তবে আমার চোখ এখন নিজের ইন্ডাস্ট্রিতে। কেননা সবাই বলত— আমি শুধু বাইরে কাজ করি। তাই দেশে কাজ করছি। ভালো সুযোগ এলে বাইরে করব।  

489843347_1216036456548865_1022945319132580286_n

সামাজিক মাধ্যমে অনেক সেলিব্রিটিকে হাসির পাত্রে পরিণত হতে দেখা যায়...

আগে সেলিব্রেটিদের অনেক সমাদর করা হতো। আজকাল মনে হয় আমরা একটু তোপের মুখেই থাকি। ভালোবাসাও পাই। তবে ক্রিটিসিজমটা তুলনামূলক বেশি। আগে যেটা ছিল ৭০/৩০ শতাংশ; সেটা এখন ৫০/৫০। ভালোবাসার পাশাপাশি বিতর্ক-সমালোচনারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আমার মনে হয় একজন সেলিব্রিটি হিসেবে এই বিষয়গুলোতে খুব সচেতন থাকা উচিত। আমি সেটা সবসময় ছিলাম। তারপরও অনেকবার ভুগতে হয়েছে। কোনো কথা বললে সেটার আগের পরের অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে। সাংবাদিকদের অনুরোধ করব, এটা খুবই ব্যাড প্র্যাক্টিস। দিন শেষে আমরা একে অন্যের পরিপূরক। বিনোদন বিভাগ চালাতে তাদের যেমন আমাদের প্রয়োজন তেমনই আমাদেরও তাদের প্রয়োজন। সে কারণে ওরকম কিছু করা ঠিক না। কোথায় যাচ্ছি, কী করছি, কী বলছি— আমাদেরও সচেতন থাকা দরকার।

গেল বছর আপনার ওপর বড় একটি ঝড় গেছে। ওই ট্রমা থেকে কি সম্পূর্ণভাবে বের হতে পেরেছেন?  

আমি যদি ট্রমা নিয়ে নিজেকে গৃহবন্দি করতাম তাহলে অনুরাগীদের সঙ্গে শতভাগ অবিচার করা হতো। তারা আমাকে ভালোবাসেন। আমার জন্য কথা বলেছেন, ফাইট করেছেন। কাজটি যে ঠিক না সেটি গণমাধ্যমে বলেছেন। তাদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে। তাছাড়া ডিপ্রেশন, ট্রমা, অ্যাংজাইটি— টাইটেল দিয়ে নিজেকে ঘরে বন্দি রাখলে প্রতিভাকেও অসম্মান করা হবে। ফ্যানদের অসম্মান করা হবে। আমি যখন কমেন্টবক্সে দেখি তারা চান আমি আরও কাজ করি, আমার জন্য শুভকামনা জানান— তখন আবেগী হই। কেননা এসব কথা সবার জন্য কিন্তু আসে না। তাহলে আমি কেন তাদের বঞ্চিত করব! তাছাড়া এটা আমার নিয়ন্ত্রণেও ছিল না। যদিও এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ট্রমা তো অবশ্যই কিছুটা রয়েছে। যেহেতু আমিও মানুষ। 

majhar

এজন্য কি কোনো কাউন্সিলিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে? 

না, কোনো কাউন্সিলিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। বাবা-মা, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব পাশে ছিলেন। তাদের সহায়তায় এখান থেকে বের হতে পেরেছি। সেদিন বাসায় ফেরার ৪৮ ঘণ্টা পর মা আমাকে বলেছিলেন— জিমে যাও, ওয়ার্কআউট করো, কাজে নামো। মুখ ভার করে বসে থাকা বা কান্না করা শক্তিশালী নারীদের মানায় না। আমিও নিজেকে সেরকম মনে করি। সে কারণেই ওই জায়গা থেকে বের হওয়া সহজ হয়েছে। 

এর আগে শরীর ভালো যাচ্ছিল না আপনার। এখন কেমন আছেন? 

এমনিতে আমি বেশ হেলদি। একটু আনহেলদি খাবার খেলে, কিংবা আনহেলদি পরিবেশে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তবে এখন ঠিক আছি। 

517397667_1286150779537432_8295218514133878115_n

প্রাক্তনরা বিয়ে সেরেছেন। আপনি বিয়ে করছেন কবে? 

বিয়েটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ যেদিন চাইবেন সেদিন হবে। যখন হবে অনেক ধুমধাম করে সবাই জানিয়ে করব। প্রাক্তনদের সবার আগে দাওয়াত দেব। 

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর