বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় বর্তমানে আপিল বিভাগে নানা জটিলতার কারণে ঝুলে আছে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আবরার ফাইয়াজ লিখেছেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে এই সরকারের আর মাত্র ২৩ দিন ক্ষমতায় থাকার সময় রয়েছে, কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও আলোচিত এই মামলার রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।’

ফাইয়াজ লেখেন, ‘এই সময়ে দাঁড়িয়ে মোটামুটি নিশ্চিত যে, আবরার ফাহাদ হত্যার রায় এই সরকার কার্যকর করতে পারলো না। গত বছরের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট থেকে আপিলের রায় দেওয়া হলেও মামলাটি এখনো সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।’
তিনি লেখেন, ‘হাইকোর্টে আপিলের রায় দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও, পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি না হওয়ায় তারা চরম হতাশ। বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা কার্যত ঝুলে আছে।’
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘বাবা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করেও কোনো অগ্রগতি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ফিরে গেছেন। বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন, আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তবে গত ১০ মাসেও কেন সেই ১৫ দিনের সময় বের করা সম্ভব হয়নি।’
আবরার ফাইয়াজের অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে আবরার ফাহাদ হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জন্য সময় পাওয়া যায়নি। সোজা বাংলায় যদি বলতে হয়, তাহলে কারণ হলো রাজনৈতিক মামলাগুলো শেষ করে বা বাদ দিয়ে এই মামলায় দেওয়ার মতো ১৫ দিন সময় হয়নি।’
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, সরকারের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার কাছে গিয়ে তারা এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করেননি। অন্তত একটি শুনানি হলেও হলে মামলাটি আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হতো না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আবরার ফাইয়াজ লেখেন, ‘কখনো বলা হয়েছে দ্রুত মামলা শেষ করলে সমস্যা হবে, কখনো বলা হয়েছে আপিল করা হয়নি, আবার কখনো আপিল সঠিকভাবে হয়নি। কখনো ভ্যাকেশনের পর আসতে বলা হয়েছে, কখনো পেপার বুক তৈরিতে সময় লাগার অজুহাত দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বলা হয়েছে, সরকারের হাতে সময় নেই।’
আবরার ফাইয়াজ লেখেন, ‘যাই হোক, আশায় বাঁচে মানুষ। দেখি পরের সরকার এসে একটু সময় দেয় কিনা।’
এমআই




