বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকায় নেই যানজট, ফাঁকা সড়কে স্বস্তির যাতায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকায় নেই চেনা যানজট, ফাঁকা সড়কে স্বস্তির যাতায়াত

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও অনেকটাই ফাঁকা রাজধানী ঢাকা। নগরবাসীর বড় অংশ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় কমেছে যানবাহনের চাপ, মিলেছে যানজটহীন স্বস্তির যাত্রা। বছরের অধিকাংশ সময় যানজটে স্থবির থাকা সড়কগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মানুষের চলাচলও কমে যাওয়ায় রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও স্বস্তি নিয়ে চলাচল করা করা যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, ইসিবি চত্বর, কুর্মিটোলা হয়ে স্টাফ কোয়ার্টার, নতুনবাজার ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

Dhaka-imrul-2এসব সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কম ছিল। কোথাও দীর্ঘ যানজট চোখে পড়েনি। সড়কে কিছু গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও ব্যস্ততার সেই চিরচেনা দৃশ্য ছিল না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ সময়ে ব্যস্ত থাকা মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকায় যানবাহনের চাপ ছিল অনেক কম। সেনানিবাস সংলগ্ন এই এলাকায় সাধারণত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ির ধীরগতি দেখা গেলেও শুক্রবার সেখানে ছিল স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

Dhaka-imrul-3কালশী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় এলাকাটি ছিল অনেকটাই নিরিবিলি। সরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতিও ছিল কম। ফলে পুরো এলাকায় ছিল শান্ত পরিবেশ। 

রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রী কম থাকায় অনেক পরিবহন সীমিতসংখ্যক বাস চালাচ্ছে। কিছু বাসকে যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে যানজট না থাকায় চালকরা স্বস্তিতে গাড়ি চালাতে পারছেন বলে জানিয়েছেন।

Dhaka-imrul-4মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে কথা হয় প্রজাপতি পরিবহনের বাস চালকের সহকারী রুবেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের সময় ঢাকায় মানুষ কমে যায়, এটা প্রতি বছরই হয়। তবে এবার বৃষ্টির কারণে মানুষ আরও কম বের হচ্ছে। রাস্তায় চাপ না থাকায় খুব দ্রুত যাওয়া যাচ্ছে।

মিরপুর থেকে ইসিবি হয়ে স্টাফ কোয়ার্টার রুটে চলাচলকারী অছিম পরিবহন বাসের চালক সহকারী সোহেল বলেন, অফিস খোলা থাকলে এই রুটে গাড়ি চালানো খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে কচুক্ষেত আর ইসিবি এলাকায় সবসময় জ্যাম থাকে। কিন্তু এখন রাস্তা একদম ফাঁকা। অনেক সময় যাত্রী পাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

Dhaka-imrul-5মিরপুর-১০ এর মোড়ে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জানান, ঈদের ছুটির সময় রাজধানীতে যানজট অনেকটাই কমে যায়। তিনি বলেন, আজ সকাল থেকে গাড়ির চাপ খুব কম। সাধারণ দিনে এই এলাকায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক বেগ পেতে হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক।

মিরপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, সাধারণ সময়ে মিরপুর থেকে স্টাফ কোয়ার্টার যেতে অনেক সময় লাগে। বিশেষ করে ইসিবি এলাকায় দীর্ঘ যানজট থাকে। কিন্তু আজ খুব কম সময়েই পৌঁছে গেছি। এমন ঢাকা সবসময় থাকলে ভালো হতো।

Dhaka-imrul-7একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকার পরিবেশ বদলে যায়। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে, শব্দদূষণও কমে যায়। আজ বৃষ্টির কারণে মানুষ আরও কম বের হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ঢাকার যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়। এতে নগরবাসীও কিছুটা স্বস্তি পান। তবে ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুলে গেলে আবারও রাজধানীতে ফিরবে চিরচেনা ব্যস্ততা ও যানজট। আগামী ১ জুন থেকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস খুললে রাজধানীতে মানুষের চাপ আবারো বাড়বে বলে ধারণা করছেন তারা।

এএইচ/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর