বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সিগারেটের নতুন এই মূল্যস্তর ধূমপায়ীর হার কমাতে কার্যকরী কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। কারণ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম বেশি হারে বাড়ানো হলেও নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে নামে মাত্র। অথচ ধূমপায়ীদের প্রায় ৯০ শতাংশ নিম্ন স্তরের সিগারেটের ভোক্তা। নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম তুলনামূলক স্বস্তা থেকে যাওয়ায় এ হার আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ স্তরের সিগারেটের অনেক ভোক্তাও কম দামের নিম্ন স্তরের সিগারেটে ঝুঁকতে পারেন।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চার-স্তরবিশিষ্ট মূল্য কাঠামোয় নিম্ন স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম ফ্লোর প্রাইস ১০ শলাকার প্যাকেটে মাত্র ২ টাকা বেড়েছে। আর প্রতি শলাকায় বেড়েছে মাত্র ২০ পয়সা। অন্যদিকে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটে মধ্যম স্তরের মূল্য বেড়েছে ১২ টাকা, উচ্চ স্তরে ২০ টাকা এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরে ২৫ টাকা।
প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্ন স্তরে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতদিন ১০ শলাকার সিগারেটে চার স্তরে নূন্যতম খুচরা দাম ছিল যথাক্রমে ৬০, ৮০, ১৪০ ও ১৮৫ টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই মূল্যস্তরে উচ্চ স্তর ও নিম্ন স্তরের সিগারেটের দামের পার্থক্যও বাড়বে। সিগারেটের দামের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি ’ডাউনট্রেডিং’ প্রবণতাকে আরও উস্কে দিতে পারে। অর্থাৎ ধূমপান ত্যাগ না করে ব্যবহারকারীরা অপেক্ষাকৃত সস্তা ব্র্যান্ডে চলে যাবে। এতে ধূমপান কমার বদলে কম দামি ব্রান্ডের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারকেরা। কিন্তু সিগারেটের নতুন মূল্য নির্ধারণে নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং এই মূল্যস্তর সরকারের তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত সিগারেটের নতুন মূল্যস্তর ডাউনট্রেডিং প্রবণতা বাড়াবে। এতে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব- দুই লক্ষ্য থেকেই পিছিয়ে পড়বে সরকার। তামাক ব্যবহার কমাতে হলে শুধু উচ্চমূল্যের সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো যথেষ্ট নয়। এমন করনীতি প্রয়োজন, যা উচ্চ ও নিম্ন স্তরের সিগারেটের দামের পার্থক্য কমাবে এবং ধূমপায়ীদের সস্তা ব্র্যান্ডে চলে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দুই ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ফলে উভয় দিক বিবেচনায় ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার আগে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
এজেড



