বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে বিশপ প্রতিনিধিদল: শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

ফ্রান্স থেকে মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে বিশপ প্রতিনিধিদল: শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা
প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে বিশপ প্রতিনিধিদল: শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

ফ্রান্সে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংলাপের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঐতিহাসিক প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) ফ্রান্সের বিশপ সম্মেলনের প্রায় ১০০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন। দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেছে।

ফরাসি বিশপ সম্মেলনের মহাসচিব ও মুখপাত্র ক্রিস্টোফ ল্য সু এবং মুসলিমদের সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক জাতীয় প্রতিনিধি জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া বুরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। সফরের শুরুতে প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদের রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদলটি মসজিদের ইতিহাস, ইসলামী সভ্যতার ঐতিহ্য এবং ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। আলোচনায় মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, এমন এক সময়ে এই সাক্ষাৎ ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো যখন বিশ্ব নানা সংকট ও বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পোপ লিও চতুর্দশের সম্ভাব্য প্যারিস সফরকে ফ্রান্স ও শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে পোপকেও এই মসজিদে স্বাগত জানানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সফর শেষে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে ধর্মীয় বিভাজন ও উগ্রবাদ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আন্তঃধর্মীয় সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম ও খ্রিস্টান নেতাদের এই নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা সামাজিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সফরের মাধ্যমে এটি পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর