বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পরকালেও জালেমদের সঙ্গ থেকে বাঁচার আকুতি: প্রসঙ্গ ‘আসহাবে আরাফ’

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পরকালেও জালেমদের সঙ্গ থেকে বাঁচার আকুতি: প্রসঙ্গ ‘আসহাবে আরাফ’

কেয়ামতের দিন আমলনামা মাপার পর মানুষ প্রধানত জান্নাতি ও জাহান্নামি এই দুই দলে বিভক্ত হবে। কিন্তু এর বাইরেও একটি বিশেষ শ্রেণি থাকবে, যারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করবে। এদের বলা হয় ‘আসহাবে আরাফ’ বা আরাফবাসী। পবিত্র কোরআনে এই দলের আলোচনা এতই তাৎপর্যপূর্ণ যে, তাদের নামেই একটি পূর্ণাঙ্গ সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’।

‘আরাফ’ কী এবং কোথায়?

জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী প্রাচীরবেষ্টনীর উচ্চ স্থানকে ‘আরাফ’ বলা হয়। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আরাফ উঁচু টাওয়ারের মতো, যা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে অবস্থিত।’ (তাফসিরে তাবারি)
এই স্থানে অবস্থানকারীরা উভয় পক্ষের লোকদের তাদের নিদর্শন দেখে চিনতে পারবে। হাশরের ময়দানে কিছু গুনাহগার বান্দা এখানে সাময়িকভাবে অবস্থান করবে।

কারা আরাফবাসী?

আরাফবাসীরা হলো যাদের নেকি ও পাপ সমান। তাফসিরে এসেছে, নেক আমল তাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়েছে, কিন্তু তারা এখনও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারেনি। হজরত ইবনে জারির (রহ.) বলেন, ‘তারা জান্নাতী ও জাহান্নামীদের তাদের নিদর্শনের মাধ্যমে চিনতে পারবে।’

আরও পড়ুন: জাহান্নামিদের সঙ্গে জান্নাতিদের যেসব কথা হবে

জান্নাতিদের দিকে দৃষ্টি ও সম্ভাষণ

আরাফবাসীরা জান্নাতিদের দিকে তাকালে তাদের মন খুশিতে ভরে উঠবে। যদিও তারা তখনো জান্নাতে প্রবেশ করেনি, তবুও তারা বলবে- ‘সালামুন আলাইকুম’ (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।
দুনিয়াতেও পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় এই সম্ভাষণ বলা সুন্নত। আখেরাতে ফেরেশতারাও জান্নাতিদের এভাবেই স্বাগত জানাবে। (সুরা রাদ: ২৪, সুরা জুমার: ৭৩)

জাহান্নামিদের দিকে দৃষ্টি ও ভীতি

আরাফবাসীর দৃষ্টি যখন জাহান্নামের দিকে ফিরবে, তারা দেখবে আগুনের শিখা ও শাস্তিপ্রাপ্ত মানুষদের। তারা তখন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে- ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করবেন না।’ (সুরা আরাফ: ৪৭)

আরও পড়ুন: জান্নাতি ও জাহান্নামি লোক চেনার যে উপায় বলেছেন নবীজি

অহংকারীদের প্রতি ভর্ৎসনা

আরাফবাসীরা জাহান্নামের আগুনে লাঞ্ছিত প্রতাপশালী ও অহংকারী নেতাদের দেখবে এবং ভর্ৎসনা করে বলবে- ‘তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার আজ কোনো কাজে আসল না।’ (সুরা আরাফ: ৪৮)
অর্থাৎ, দুনিয়ার ক্ষমতা ও অহংকার পরকালে কোনো কাজের নয়।

শিক্ষা ও অনুস্মারক

আরাফবাসীদের এই দৃশ্য আমাদের শিক্ষা দেয়- দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা, দলবল বা সম্পদ পরকালে কাজে আসে না। মুমিনদের উচিত জালেমদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং নেক আমল ও সৎকর্মে মনোনিবেশ করা, যাতে চূড়ান্ত বিচারে সফলতা লাভ করা যায়।
(তথ্যসূত্র: সুরা আরাফ: ৪৬-৪৮; তাফসিরে তাবারি ও ইবনে কাসির)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর