বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

হজের পর আবারও সুদের লেনদেন, ইসলাম কী বলে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

হজের পর আবারও সুদের লেনদেন, ইসলাম কী বলে

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা একজন মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি, তাওবা এবং নতুনভাবে আল্লাহমুখী হওয়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে। সহিহ হাদিসে হজকে এমন ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা যথাযথভাবে আদায় করলে মানুষের পূর্বের গুনাহ মাফের মাধ্যম হয়।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করল এবং তাতে অশ্লীলতা ও পাপাচার করল না, সে তার মায়ের জন্মদানের দিনের মতো (নিষ্পাপ অবস্থায়) ফিরে আসে।’ (সহিহ বুখারি: ১৫২১)

তবে প্রশ্ন হলো- এই পবিত্র ইবাদতের পর যদি কেউ আবার সুদের (রিবা) মতো স্পষ্ট হারাম কাজে ফিরে যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে এর অবস্থান কী?

সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

ইসলামে সুদকে (রিবা) অত্যন্ত গুরুতর গুনাহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোরআনে একে সরাসরি নিষিদ্ধ করে কঠোর সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং যদি তোমরা মুমিন হও, সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও।’ (সুরা বাকারা: ২৭৮)

আরও পড়ুন: সুদের টাকা কোন পথে খরচ করা যাবে?

এবং আরও বলেন- ‘যদি তোমরা তা না ছাড়ো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও।’ (সুরা বাকারা: ২৭৯)

এ আয়াতগুলো থেকে সুদের ভয়াবহতা এবং এর গুরুতর পরিণতি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

হজের পর সুদের লেনদেনে ফেরা

আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হজের মাধ্যমে পূর্বের গুনাহ মাফ হওয়ার আশা করা যায়; তবে পরবর্তীতে আবার সুদের মতো স্পষ্ট হারামে জড়িয়ে পড়া একজন মুমিনের জীবনে তাকওয়া ও আত্মসংযমের দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।

তবে আলেমগণ এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে, হজ কবুল হওয়া একটি অদৃশ্য বিষয় এবং এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর কাছেই ন্যস্ত।

হজের মূল শিক্ষা: পাপ থেকে ফিরে আসা

কোরআনে আল্লাহ তাআলা হজের বিষয়ে বলেন- ‘হজ হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট মাসে, অতঃপর এ মাসগুলোতে যে কেউ হজ করার মনস্থ করবে, তার জন্য হজের মধ্যে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়।’ (সুরা বাকারা: ১৯৭)

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, হজের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো- গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহভীতি অর্জন করা। অনুরূপভাবে কোরআনে নামাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫)

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স প্রণোদনা: শরিয়তের দৃষ্টিতে হালাল না হারাম?

সুদের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য সতর্কবার্তা

হাদিসে সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘তিনি সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও সাক্ষী সবাইকে অভিশাপ দিয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

এ থেকে বোঝা যায়, সুদের বিষয়টি সামাজিকভাবেও গুরুতর অপরাধ।

তাওবার সুযোগ সবসময় বিদ্যমান

ইসলামে গুনাহ থেকে ফিরে আসার দরজা সবসময় উন্মুক্ত। আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে একজন মানুষ নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা যুমার: ৫৩)

আরও পড়ুন: ব্যাংকের সুদ কোন খাতে খরচ করবেন, কোন খাতে করবেন না

আলেমদের মতে, তাওবার মৌলিক শর্ত হলো-

  • গুনাহ থেকে বিরত থাকা
  • অনুতপ্ত হওয়া
  • ভবিষ্যতে পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা

হজ একজন মুসলমানের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই ইবাদত জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাই হজের পর সুদের মতো হারাম কাজে ফিরে যাওয়া মুমিনের জন্য গভীর সতর্কতার বিষয়। একজন হাজির উচিত হজের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করা, হালাল উপার্জনের পথে অটল থাকা এবং সুদের মতো স্পষ্ট হারাম থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকা।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর