ফুটবল মাঠে রেফারির চোখ এড়াতে কিংবা প্রতিপক্ষকে স্লেজিং করার সময় ফুটবলারদের মুখে হাত দিয়ে কথা বলার দৃশ্য বেশ পরিচিত। কিন্তু ফিফার নতুন ও কঠোর নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে এবার সেই মুখে হাত দেওয়াই কাল হলো প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরনের জন্য। নতুন এই নিয়মের অধীনে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে মুখে হাত দিয়ে কথা বলার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন নিউক্যাসলের এই সাবেক তারকা।
আজ বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক। ম্যাচের প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে তুরস্কের ডিফেন্ডার মের্ট মুলদুরের সাথে মাঠে বাদানুবাদে জড়ান আলমিরন। সে সময় নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে মুলদুরের উদ্দেশ্যে কিছু একটা মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি মাঠের রেফারির চোখ এড়ালেও ভিএআর রিভিউয়ের পর রেফারি আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। মাঠ ছাড়ার আগে অবশ্য তাঁর দল প্যারাগুয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
ফুটবল মাঠ থেকে বর্ণবাদ, বৈষম্য এবং আপত্তিকর মন্তব্য দূর করতে গত এপ্রিল মাসে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী মাঠে প্রতিপক্ষের সাথে কোনো দ্বন্দ্ব বা বাদানুবাদের সময় কোনো খেলোয়াড় যদি হাত বা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন, তবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই এই নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা শুরু হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাথে বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির একটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই নিয়ম আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রেস্তিয়ান্নি বর্ণবাদের কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ‘হোমোফোবিক আচরণের’ জন্য তাকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরু থেকেই এই নিয়মটির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। গত মার্চে এই নিয়ম প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘আপনার যদি কিছু লুকানোর না থাকে, তবে কথা বলার সময় মুখ লুকানোরও কোনো প্রয়োজন নেই। বিষয়টি একদম পরিষ্কার এবং সহজ।’
ফিফার এই কঠোর বার্তার প্রথম বড় শিকার হলেন মিগুয়েল আলমি রন। ফুটবলে বর্ণবাদ বিরোধী এই নতুন নিয়ম খেলোয়াড়দের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনে, তা এখন দেখার বিষয়।




