বাংলাদেশের হকি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চিরবিদায় নিলেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, সফল কোচ ও ক্রীড়া সংগঠক আবদুস সাদেক শনিবার (২০ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হকি, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় অসামান্য অবদান রাখা এই ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়ায় শোকাহত হয়ে পড়েছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই। মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে হবে।
আবদুস সাদেক বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছোট ভাই। তাঁর বড় ছেলে ইশতিয়াক সাদেক টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিচিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন আবদুস সাদেক। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসের ইউরোপ সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে খেলে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। ফেরার পথে মিসরের বিপক্ষেও মাঠে নেমেছিলেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে নেতৃত্ব দেন। তিনি ফুটবল ও ক্রিকেটেও দক্ষতা দেখিয়েছেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ব্রিটিশ আমলের নামকরা সাঁতারু ছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ১৯৭৭ সালে আবাহনীর কোচ হয়ে ইতিহাস গড়েন সাদেক। সেই মৌসুমে তাঁর অধীনে আবাহনী একটিও ম্যাচ হারেনি। মাত্র তিনটি ড্র নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাবটি। স্বাধীন বাংলাদেশে এটিই ছিল কোনো দলের প্রথম অপরাজিত লিগ শিরোপা।
১৯৮৩-৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি আয়োজন সম্ভব হয়। জাপানের পরিবর্তে বাংলাদেশ আয়োজক হওয়ার পেছনে তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা ও উপস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৭৭-৭৮ সালে দেশের প্রথম জাতীয় হকি দল গঠিত হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অধিনায়কত্ব করেন। সিরিজে এক জয়, এক ড্র ও এক পরাজয়ের ফল হয়। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম এশিয়ান গেমসে হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। আবদুস সাদেক খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠক তিন ভূমিকাতেই দেশের ক্রীড়ায় অমলিন ছাপ রেখে গেছেন।




