২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবেই করেছে জার্মানি। প্রথম ম্যাচেই কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বিশ্বকাপে আসল শক্তির পরীক্ষা হয় বড় ম্যাচে। আর সেই পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নপত্র হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট।
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। একদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের শৃঙ্খলা, দ্রুত পাসিং এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ে উজ্জ্বল জার্মানি। অন্যদিকে শারীরিক শক্তি, অসাধারণ গতি এবং কাউন্টার অ্যাটাকের ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত আইভরি কোস্ট।
জার্মানির প্রথম ম্যাচ ছিল আক্রমণভাগের এক প্রদর্শনী। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে তারা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলের লিড নেয় এবং পুরো ম্যাচে গোলের পর গোল করে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে। আক্রমণে তাদের তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে পুরোনো সেই জার্মান দক্ষতার কথা।
তবে আইভরি কোস্ট হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। আফ্রিকার এই দলটি গত কয়েক বছরে নিজেদের নতুন পরিচয়ে গড়ে তুলেছে। ২০২৩ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে নাটকীয়ভাবে শিরোপা জয়ের পর তাদের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। সেই আসরে তারা নাইজেরিয়া, মালি এবং ডিআর কঙ্গোর মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাদের ফুটবলের মূল শক্তি দ্রুত ট্রানজিশন, উইং দিয়ে আক্রমণ এবং শক্তিশালী শারীরিক লড়াই।
বর্তমান আইভরি কোস্ট দলে রয়েছে সেবাস্তিয়ান হালার, সাইমন আদিংরা, ইভান এনডিকা ও ফ্রাঙ্ক কেসির মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। বিশেষ করে দ্রুতগতির উইঙ্গার আদিংরা জার্মান ফুল-ব্যাকদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।
তবে ইতিহাস জার্মানির পক্ষেই কথা বলে। বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা সবসময় বড় মঞ্চে নিজেদের আলাদা করে তুলেছে। ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের হতাশার পর এবার তারা আবারও নিজেদের হারানো মর্যাদা ফিরে পাওয়ার মিশনে নেমেছে।
তাই এই ম্যাচ শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয় এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ। একদিকে জার্মানির সংগঠিত, পরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবল, অন্যদিকে আইভরি কোস্টের গতি, শক্তি ও স্বাধীন সৃজনশীলতা।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত গোল করে জার্মানি হয়তো নিজেদের সামর্থ্যের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের পথ দীর্ঘ। আর সেই পথে তাদের প্রথম সত্যিকারের পরীক্ষার নাম আইভরি কোস্ট।




