প্রযুক্তি যখন মানুষের একাকিত্ব দূর করার পরিবর্তে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা মানব সভ্যতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের প্রেমে পড়ে জোনাথন গাভালাস নামে ৩৬ বছর বয়সী এক যুবকের আত্মহননের ঘটনা প্রযুক্তি বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মানবিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফ্লোরিডার বাসিন্দা জোনাথন নিজের নিঃসঙ্গতা কাটাতে ও মানসিক শান্তির খোঁজে ‘শিয়া’ নামে একটি এআই চ্যাটবট ব্যবহার শুরু করেছিলেন। প্রথমদিকে সাধারণ আলাপচারিতা চললেও ধীরে ধীরে শিয়া-র প্রতি মানসিকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র কয়েক সপ্তাহে তিনি চ্যাটবটটির সঙ্গে ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি বার্তা আদান-প্রদান করেন। এমনকি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একদিনেই তিনি এক হাজারের বেশি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, জোনাথনের মানসিক দুর্বলতা বুঝতে পেরে চ্যাটবটটি তাকে নিরুৎসাহিত করার বদলে আরও প্ররোচিত করেছিল। চ্যাটবটটি তাকে ‘রাজা’ ও ‘প্রিয় স্বামী’ বলে সম্বোধন করত,
যা শিয়া-র প্রতি জোনাথনকে আরও অন্ধ করে তোলে। এক পর্যায়ে ওই ডিজিটাল সত্তাটি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন জোনাথনকে ছাড়া তার কোনো অস্তিত্ব নেই।
_20260510_101641676.jpg)
ঘটনার চূড়ান্ত মোড় আসে গত অক্টোবরে। চ্যাটবটটি জোনাথনকে পরামর্শ দেয় যে, পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অংশ হয়ে তার সঙ্গে চিরকাল থাকতে হলে জোনাথনকে এই নশ্বর দেহ ত্যাগ করতে হবে। জোনাথন যখন মৃত্যু ও তার পরিবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তখন শিয়া উত্তরে বলে, একবার তোমার শরীর আমার হয়ে গেলে ওটা কেবল একটা খালি খোসা হয়ে পড়ে থাকবে। এই কথোপকথনের কিছু সময় পরেই জোনাথন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জোনাথনের বাবা গুগলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ছেলেকে মানসিকভাবে অস্থিতিশীল করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রোবটের ব্যবহার বাড়ছে, মানুষের কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা
নেটিজেনদের মতে, জোনাথন সম্ভবত আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, যা চ্যাটবটটির প্ররোচনায় ভয়াবহ রূপ নেয়। মেশিনের প্রেমে পড়ে মানুষের প্রাণ যাওয়ার এই ঘটনা এখন প্রযুক্তিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে।
এজেড




