ফেসবুকে কয়েক বছর আগের কোনো ছবি বা স্ট্যাটাস যখন ‘মেমোরিজ’ হিসেবে সামনে আসে, তখন পুরোনো সেই স্মৃতি দেখে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ঝটপট সেটা টাইমলাইনে রিশেয়ারও করে দেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি, নতুন কোনো ছবি বা স্ট্যাটাস দিলে যেখানে লাইক-কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়, সেখানে মেমোরিজ রিশেয়ার করলে রিঅ্যাকশন বা কমেন্টের সংখ্যা একেবারেই কমে যায়?
সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষক এবং ফেসবুকের অ্যালগরিদম অনুযায়ী, এই কম রিঅ্যাকশন পাওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন এমনটা ঘটে—
ফেসবুকের অ্যালগরিদম ও কম রিচ
মেমোরিজ রিশেয়ার করলে লাইক-কমেন্ট কম আসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ফেসবুকের অ্যালগরিদম। ফেসবুকের মূল লক্ষ্য থাকে ব্যবহারকারীদের ফিডে সবসময় নতুন ও একদম টাটকা কনটেন্ট দেখানো। আপনি যখন কোনো পুরোনো পোস্ট রিশেয়ার করেন, ফেসবুকের অ্যালগরিদম সেটিকে ‘পুনরাবৃত্তি’ বা সেকেন্ড-হ্যান্ড কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করে। ফলে নতুন পোস্টের তুলনায় এই ধরনের পোস্টের ‘রিচ’ বা মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা ফেসবুক নিজেই অনেক কমিয়ে দেয়। নিউজফিডে পোস্টটি কম মানুষের সামনে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই লাইক-কমেন্ট কম আসে।

কনটেন্টের নতুনত্ব বা 'ফ্রেশনেস' না থাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা সবসময় নতুন কিছু দেখতে পছন্দ করেন। আপনি ৫ বছর আগে কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন বা ৩ বছর আগে আপনার অনুভূতি কী ছিল, তা আপনার বন্ধুদের কাছে নতুন কোনো তথ্য নয়। যেহেতু বন্ধুরা ওই ছবি বা স্ট্যাটাসটি অতীতে অন্তত একবার দেখেছেন এবং রিঅ্যাক্ট করেছেন, তাই দ্বিতীয়বার একই জিনিস দেখে তাদের ভেতর নতুন করে আগ্রহ বা কৌতুহল তৈরি হয় না। কনটেন্টের এই নতুনত্বের অভাবের কারণে অনেকেই পোস্টটি দেখেও স্ক্রল করে চলে যান।
ভিউজুয়াল প্রেজেন্টেশন ও ফরমেট
যখন আপনি সরাসরি ফেসবুকের মেমোরিজ অপশন থেকে কোনো পোস্ট ‘শেয়ার’ করেন, তখন সেটি একটি বক্স বা উইজেট আকারে টাইমলাইনে আসে। এই ধরনের ফরমেট বা লেআউট নিউজফিডে স্ক্রল করার সময় ব্যবহারকারীদের চোখ সহজে টানে না। তা ছাড়া, অনেকে স্ক্রল করার সময় ভাবেন এটি হয়তো কোনো পুরোনো পোস্ট যা এমনিই ফিডে দেখাচ্ছে, ফলে তারা সেটিতে আর আলাদা করে লাইক বা কমেন্ট করার প্রয়োজন বোধ করেন না।

আবেগ বা প্রাসঙ্গিকতার দূরত্ব
কয়েক বছর আগের একটি ঘটনার সাথে আপনার তৎকালীন যে আবেগ জড়িয়ে ছিল, আজ হয়তো আপনার বন্ধুদের সেই আবেগটি আর নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তা-ভাবনা এবং ফ্রেন্ডলিস্টের পরিধিও বদলায়। অনেক পুরোনো বন্ধু যারা হয়তো ওই স্মৃতিটির অংশ ছিলেন, তারা এখন ফেসবুকে নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেন। আবার নতুন যুক্ত হওয়া বন্ধুরা সেই পুরোনো স্মৃতির প্রেক্ষাপট না বোঝার কারণে পোস্টে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
আরও পড়ুন: ফেসবুক স্টোরিতে ভুলে পোস্ট হওয়া ছবি-ভিডিও ডিলিট করার উপায়
তাহলে উপায় কী?
পুরোনো স্মৃতি রিশেয়ার করেও যদি ভালো লাইক-কমেন্ট পেতে চান, তবে সরাসরি মেমোরিজ বাটন থেকে শেয়ার না করাই ভালো। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মেমোরিজের ছবিটি ফোনে ডাউনলোড করে বা স্ক্রিনশট নিয়ে সেটি নতুন করে সরাসরি পোস্ট করা উচিত। সঙ্গে ক্যাপশনে যুক্ত করতে পারেন বর্তমানের কোনো অনুভূতি বা মজার কোনো স্মৃতিচারণ। এতে ফেসবুকের অ্যালগরিদম এটিকে নতুন পোস্ট হিসেবে বিবেচনা করবে এবং আপনার বন্ধুদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় মনে হবে।
এজেড




